

ক্ষমতাকাঠামোতে সমৃদ্ধ মাগুরা, তবু লোডশেডিংয়ে জনদুর্ভোগ চরমে; সমাধানে উদ্যোগ চায় জনগণ
এ কে এম মাজেদুল আলম ইভান, মাগুরা:
মাগুরায় বিদ্যুৎ লোডশেডিং সর্বকালের শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দিন-রাত ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে রাতের দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে নির্ঘুম সময় কাটছে বহু পরিবারের। প্রচণ্ড গরমে দুর্ভোগ বেড়েছে, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও জনজীবনে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে হিমশিম খাচ্ছে। উৎপাদন ও সেবামূলক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় উন্নয়নের যাত্রাও যেন পিছিয়ে পড়ছে।
শুধু অর্থনীতি নয়, লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়ছে শিক্ষা ক্ষেত্রেও। বর্তমানে চলমান এসএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা, রাতের প্রস্তুতি ও মানসিক স্থিতি ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরম ও লোডশেডিংয়ের কারণে পরীক্ষার্থীরা শারীরিক অস্বস্তি ও মানসিক চাপে ভুগছে, যা তাদের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্কুল-কলেজের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কোমলমতি শিশুদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হচ্ছে, অনেকে ঘুম ও পড়াশোনায় সমস্যায় পড়ছে।
এছাড়া রোগীদের দুর্ভোগও বেড়েছে উদ্বেগজনকভাবে। হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাসাবাড়িতে থাকা বয়স্ক, হৃদরোগী, শ্বাসকষ্টজনিত রোগী, নবজাতক ও শিশুদের পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—মাগুরা ছোট জেলা বলেই কি বিদ্যুৎ সরবরাহে এমন বৈরী প্রতিফলন? কারণ, প্রতিনিধিত্ব ও প্রভাবের বিচারে মাগুরা কোনো অংশে পিছিয়ে নয়। জেলাটিতে রয়েছেন একজন মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান, সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আর্লি। পাশাপাশি মাতৃভূমির সঙ্গে সম্পৃক্ত আরও দুই সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায়চৌধুরী ও তাহসিনা রুশদি লুনা। শুধু রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নয়, রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও মাগুরার সম্পৃক্ততা উল্লেখযোগ্য—পাঁচজন সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা রয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—স্বয়ং বিদ্যুৎ বিভাগের শীর্ষ পর্যায়েও মাগুরার সন্তান রয়েছেন বলে জনমনে আশাবাদ রয়েছে।
মাগুরাবাসীর প্রত্যাশা, এই প্রতিনিধিত্ব ও “মাতৃশেকড়ের টান” বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। যদিও বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট, অর্থনৈতিক চাপ এবং নানা বাস্তবতা মানুষ উপলব্ধি করে—তারপরও মৌলিক সেবা হিসেবে অন্তত সহনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি তাদের।
এদিকে, মাগুরা পৌর এলাকায় স্ট্রিট লাইট বা সড়কবাতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নেই, আবার কোথাও বাতি থাকলেও লোডশেডিংয়ের কারণে তা নিভে যাচ্ছে। ফলে রাতের অন্ধকারে ছিনতাই, চুরি, মাদকসংশ্লিষ্ট তৎপরতাসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের দাবি, লোডশেডিং নিরসনের পাশাপাশি বিদ্যুতের খুঁটিতে থাকা আলোকসজ্জা ও স্ট্রিট লাইট সচল রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আলাদা বিদ্যুৎ লাইন বা ব্যাকআপ ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও দাবি উঠেছে।
মাগুরাবাসীর প্রত্যাশা—প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিত উদ্যোগ নিলে বিদ্যুৎ সংকট আংশিক হলেও লাঘব হবে এবং শিক্ষার্থী, পরীক্ষার্থী, শিশু, রোগীসহ সাধারণ মানুষ এই অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিস্থিতি থেকে কিছুটা স্বস্তি পাবে।