

মাগুরা শ্রীপুরে -প্রেমের বিয়ে, শেষটা লাশে: ৭ বছর পর স্ত্রীকে হত্যা, ঘাতক স্বামীর স্বীকারোক্তিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য৷।
এ কে এম মাজেদুল আলম ইভান, মাগুরা।
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় নিখোঁজের পর গৃহবধূ লিমা খাতুন (২৪)-এর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। প্রেম করে বিয়ের সাত বছর সংসার করার পর স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে স্বামী সুজন শেখকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সুজন শেখ ঝিনাইদহ জেলার হাটগোপালপুর এলাকার তিওড়দাহ কলোনীর মরজেন মিয়ার ছেলে। প্রায় সাত বছর আগে শ্রীপুর উপজেলার বড় উদাস গ্রামের হাই জোয়ার্দারের মেয়ে লিমা খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে রয়েছে দুইটি সন্তান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বেলা ১১টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার বড় উদাস গ্রামের একটি মাঠের ঘাসের জমিতে লিমা খাতুনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
এর আগে সোমবার লিমা খাতুন তার শাশুড়ি জাহেরা খাতুন ও দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন, যা পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
ঘটনার পরপরই মাগুরা জেলা পুলিশ, পিবিআইসহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে দ্রুত সন্দেহভাজন হিসেবে স্বামী সুজন শেখকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে।
বুধবার সন্ধ্যায় মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুজন শেখ শ্বশুরবাড়ির এলাকায় গিয়ে মোবাইল ফোনে গোপনে লিমাকে বাড়ির বাইরে ডেকে নেয়। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে বিবস্ত্র অবস্থায় ঘাসের জমিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, এ ঘটনায় মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে দুই শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে এমন নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা হোক।
সংযোজন (মানবিক দৃষ্টিকোণ):
প্রেম থেকে শুরু হওয়া একটি সম্পর্কের এমন মর্মান্তিক পরিণতি সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। পারিবারিক কলহ, সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতার এই চিত্র আমাদের জন্য সতর্কবার্তা—সময়ের আগেই সমস্যা সমাধান ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব যে কত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, এই ঘটনাই তার জ্বলন্ত উদাহরণ।