
ংপ্রত্যয়নপত্র পেতে দপ্তরের রুম টু রুম ঘোরাঘুরি, মাগুরা পৌরসভায় সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন
এ কে এম মাজেদুল আলম ইভান,মাগুরা।
নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পরও সময়মতো প্রত্যয়নপত্র না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাগুরা পৌরসভা-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নাগরিক সেবার মান, দাপ্তরিক সমন্বয় ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী এক সেবা প্রত্যাশী জানান, গত ৪ মার্চ ব্যাংকে ৫০ টাকা জমা দিয়ে রসিদ গ্রহণ করেন তিনি। কিন্তু সেদিন তাকে প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়নি। পরদিন ৫ মার্চ পুনরায় পৌরসভায় গেলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কাগজপত্রের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এক কক্ষ থেকে আরেক কক্ষে পাঠানো হয় তাকে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে তিনি চরম হতাশা প্রকাশ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত রুপা নামে এক অফিস সহায়ক বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও বিব্রতকর করে তোলে।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ইমতিয়াজ হোসেন (উপসচিব) বলেন, অদক্ষ জনবল ও অনিয়ন্ত্রিত নিয়োগ ব্যবস্থার কারণে অনেক সময় সেবার মান ব্যাহত হয়। তিনি মন্তব্য করেন, স্থানীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু কর্মীর মধ্যে প্রভাব খাটানোর প্রবণতা দেখা যায়। নিয়োগ প্রক্রিয়া যদি দেশব্যাপী ভিত্তিতে পরিচালিত হতো, তাহলে এমন প্রভাব বিস্তারের সুযোগ কমে আসত এবং কর্মীরা আরও বেশি সেবামুখী হতে বাধ্য হতেন।
উল্লেখ্য, পৌর প্রশাসককে একসঙ্গে পৌরসভা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হয়। এই কর্মব্যস্ততার সুযোগকে কিছু অসাধু স্টাফ কাজে লাগিয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে পৌরসভায় নির্দিষ্ট তথ্যকেন্দ্র বা সহায়তা ডেস্ক না থাকায় সাধারণ মানুষকে দিকনির্দেশনার অভাবে দপ্তরের রুম টু রুম ঘুরতে হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বিশেষ করে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী নাগরিকদের জন্য বিষয়টি আরও দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, সেবার মান উন্নয়ন, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং কার্যকর তদারকি ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা হোক।
Leave a Reply