
কামারখালী ব্রিজ–এ চাঁদা আদায় বন্ধের দাবি জোরালো
এ কে এম মাজেদুল আলম ইভান, মাগুরা।
দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় পার হলেও কামারখালী ব্রিজে এখনো চাঁদা আদায় বন্ধ হয়নি—এ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও টোল বা চাঁদা আদায় অব্যাহত থাকায় স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন, এই আদায়ের বৈধতা ও স্বচ্ছতা কোথায়?
স্থানীয় পরিবহন চালক, ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা জানান, একসময় অবকাঠামো উন্নয়নের যুক্তিতে টোল চালু করা হলেও সময়সীমা অতিক্রমের পরও তা বন্ধ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে কিছু প্রভাবশালী মহল ও অসাধু চক্র এই টোল ব্যবস্থাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সরকারি কোষাগারের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থে বেশি সুবিধা নিয়েছে। ফলে ‘বৈধতার আড়ালে ধান্দাবাজি’ চলছে—এমন মন্তব্যও করছেন অনেকে।
অন্যদিকে, একই রুটে মোহাম্মদপুর ব্রিজ দিয়ে চলাচলে কোনো চাঁদা দিতে হয় না। নতুন অবকাঠামো হিসেবেও সেটি টোলমুক্ত সেবা দিচ্ছে। তাহলে কামারখালী ব্রিজে দীর্ঘদিন ধরে টোল আদায়ের যৌক্তিকতা কী—এ প্রশ্ন এখন সর্বত্র।
সচেতন মহল বলছে, দেশ যদি জনগণের হয়, তবে জনগণের স্বার্থ ও সুবিধাই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। বর্তমান সময়ে চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা নিয়ে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। নতুন রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও টোলমুক্ত নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
এ অবস্থায় কামারখালী ব্রিজের টোল আদায়ের বৈধতা, আয়-ব্যয়ের হিসাব ও চুক্তির মেয়াদ প্রকাশ করে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। প্রয়োজনে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত চাঁদা আদায় বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
জনগণের প্রশ্ন একটাই—কামারখালী ব্রিজ কি চিরকাল ‘চাঁদা মামা’ হয়েই থাকবে, নাকি অবশেষে স্বস্তি পাবে দেশবাসী? এখন সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
Leave a Reply