
বৈষম্যহীন নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে মাগুরায় সরকারি কর্মচারীদের মানববন্ধন
দাবি মানা না হলে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা
এ কে এম মাজেদুল আলম (ইভান) মাগুরা।
বৈষম্যহীন নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি ও তা দ্রুত কার্যকরের দাবিতে মাগুরায় ১১ থেকে ২০ গ্রেডভুক্ত সরকারি কর্মচারীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারীদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা জানান, এর আগে পৃথকভাবে বিভিন্ন দপ্তরের আন্দোলন চললেও সোমবার সকল দপ্তরের কর্মচারীরা একযোগে আন্দোলনে অংশ নেন। তারা অভিযোগ করেন, গত প্রায় এক যুগ ধরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত কোনো সংস্কার করা হয়নি। বিধি অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর অন্তর পে-স্কেল পুনর্নির্ধারণের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ সময়ে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বাস্তবতা বিবেচনায় বেতন অন্তত আড়াই গুণ বাড়ার যৌক্তিকতা থাকলেও বিদ্যমান পে-স্কেলে তার কোনো প্রতিফলন নেই।
কালেক্টরেটের এসএ শাখার প্রধান সহকারী মেহেদী হাসান বলেন, গত এক দশকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, অথচ কর্মচারীদের বেতন সেই অনুপাতে বাড়েনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয় আলোচনায় এলেও সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি বারবার উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।
হিসাব সহকারী আলাল হোসেন ও আউলিয়া বলেন, সরকারি দপ্তরের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও জনগণের সেবা কার্যক্রম মূলত কর্মচারীদের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। কর্মচারীরা কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকলে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। কিন্তু বর্তমান বেতন কাঠামো দিয়ে পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
তারা আরও বলেন, দেশের কোষাগারে বৈদেশিক রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়ার তথ্য প্রকাশিত হলেও কর্মচারীদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় হতাশা বাড়ছে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি দ্রুত মেনে নেওয়া না হলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে সারা দেশের ঘোষিত সেন্ট্রাল কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply