মাগুরা মহম্মদপুর প্রেসক্লাব সভাপতির বিরুদ্ধে সামাজিক বনায়নের গাছ আত্মসাতের মামলা, এলাকায় চাঞ্চল্য
মাগুরা প্রতিনিধি,
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে সামাজিক বনায়নের সংরক্ষিত গাছের গুঁড়ি আত্মসাতের অভিযোগে মহম্মদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আজিজুর রহমান টুটুলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) মহম্মদপুর থানায় দায়ের করা এজাহার নং–১৫ এ মহম্মদপুর উপজেলার ধোয়াইল পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত হাজী লুৎফুর রহমান মৃধা মন্টুর ছেলে আজিজুর রহমান টুটুল (৫৫) কে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী মাগুরা সামাজিক বনায়ন নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তপনেন্দ্র নাথ সরকার (৫৭)।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মার্চ ২০২৬ বিকেলে দায়িত্ব শেষে নার্সারির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাড়িতে যান। পরদিন ৫ মার্চ সকালে নার্সারিতে এসে তিনি দেখতে পান, সেখানে সংরক্ষিত থাকা ৭টি শিশু গাছের লগ ও ১টি মেহগনি গাছের লগসহ মোট ৮টি গাছের গুঁড়ি গায়েব হয়ে গেছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা।
ঘটনার পর উপজেলা পরিষদের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অভিযুক্ত আজিজুর রহমান টুটুল একটি মোটরসাইকেলে করে একটি নসিমন গাড়িকে অনুসরণ করে উপজেলা পরিষদে প্রবেশ করছেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, ওই নসিমন গাড়িতে করেই গাছগুলো পাচার করা হয়েছে।
পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর সহায়তায় গত ৬ মার্চ দুপুরে মহম্মদপুর থানা পুলিশ ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা ধোয়াইল বাজারের একটি স-মিলে অভিযান পরিচালনা করেন। সেখান থেকে চুরি হওয়া ৮টি লগের মধ্যে ৭টি (৬টি শিশু গাছ ও ১টি মেহগনি) উদ্ধার করা হয়। স-মিল মালিকের দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি নসিমন যোগে গাছগুলো সেখানে রেখে গিয়েছিলেন। তবে ১টি শিশু গাছের লগ এখনো নিখোঁজ রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ হাজার টাকা।
বাদী তপনেন্দ্র নাথ সরকার জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে কিছুটা সময় লাগলেও তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর থানার পুলিশ জানায়, এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও অভিযুক্ত আজিজুর রহমান টুটুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ স্থানীয় মহলে আলোচিত ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক সময় একটি সরকারি অফিসের লোহার গেট আত্মসাৎ করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে তা ফেরত দিতে বাধ্য হন তিনি। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন দোকানপাট, হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের সাথে আর্থিক লেনদেন ও অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারের অভিযোগও রয়েছে বলে এলাকাবাসী দাবি করেন।
সাংবাদিকতায় তাকে তেমন সক্রিয়ভাবে দেখা না গেলেও প্রেসক্লাবের নাম ভাঙিয়ে ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে চলাফেরা ও সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সাম্প্রতিক সরকারি সামাজিক বনায়নের গাছ আত্মসাতের ঘটনায় এসব অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে এবং বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।